মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৮ জানুয়ারি ২০১৮

জাহাজ অধিগ্রহণ পরিকল্পনা

           

                                                     বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন
                                                               চট্টগ্রাম।
                                                         (পরিকল্পনা বিভাগ)

                                       বিষয়ঃ  বিএসসি’র ভবিষ্যত জাহাজ অর্জন পরিকল্পনা।

আন্তর্জাতিক নৌ-পথে নিরাপদ ও দক্ষ শিপিং সেবা প্রদান এবং আমত্মর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের যাবতীয় কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সমাধাকল্পে ১৯৭২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী মহামান্য রাষ্ট্রপতির ১০ নং আদেশ বলে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে ‘‘বাংলার দূত’’ও ১৯৭৩ সালে ‘‘বাংলার সম্পদ’’ অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিএসসি এ যাবৎ সর্বমোট ৩৮টি জাহাজ সংগ্রহ করে। বয়সজনিত কারণে এবং বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক বিবেচিত হওয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে ৩৬টি জাহাজ বিক্রয়/হসত্মামত্মর করার পর বর্তমানে বিএসসি’র বহরে ০২টি  লাইটারেজ ট্যাংকার রয়েছে। বর্তমানে চায়না এক্সিম ব্যাংকের ঋণ সহায়তায় চীনে ৬টি নতুন জাহাজ নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিএসসি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেশ কিছু সংখ্যক জাহাজ ক্রয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া  দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকার ও বেসরকারী উদ্যোগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধামেত্মর প্রেক্ষিতে উক্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কাচাঁমাল/পণ্য (কয়লা) পরিবহণের জন্য জাহাজ ক্রয়েরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাছাড়া গৃহস্থালি ও শিল্পের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক এলএনজি আমদানির সিদ্ধামেত্মর প্রেক্ষিতে বিএসসি এলএনজি ক্যারিয়ার সংগ্রহের প্রকল্পও গ্রহণ করেছে। 

 

 বিএসসি’র জাহাজ অর্জন পরিকল্পনার মধ্যে বর্তমান জাহাজ বহরের প্রতিস্থাপন ছাড়াও একাধিক বিভিন্ন আকার ও ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন জাহাজ সংগ্রহের কার্যক্রম অমত্মর্ভূক্ত। অধিকন্তু দেশের মোট আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে সরকারী খাতে পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসায়িক চাহিদা এবং সরকারের ৭ম পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনা, রূপকল্প/ভিশন-২০২১ এবং ২০৪১ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা (SDG) এর সামঞ্জস্য রেখে বিএসসি’র নিমেণাক্ত প্রকল্পসমূহ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছেঃ-

 

(১)

২টি নতুন প্রতিটি ৩০,০০০ - ৩৫,০০০ ডিডব্লিউটি সম্পন্ন কেমিক্যাল/ক্রুড অয়েল ট্যাংকার ক্রয়।

(২)

২টি নতুন প্রতিটি ১,০০,০০০-১,২৫,০০০ ডিডব্লিউটি  সম্পন্ন মাদার ট্যাংকার ক্রয়।

(৩)

১০টি নতুন প্রতিটি ১০,০০০-১৫,০০০ ডিডব্লিউটি  সম্পন্ন বাল্ক ক্যারিয়ার ক্রয়।

(৪)

৪টি নতুন প্রতিটি ১,২০০-১,৫০০ টিউজ সম্পন্ন কন্টেইনার জাহাজ ক্রয়।

(৫)

২টি নতুন প্রতিটি কমপক্ষে ৮০,০০০ ডিডব্লিউটি সম্পন্ন (ডিজেল পরিবহন উপযোগী) মাদার প্রোডাক্ট  অয়েল

ট্যাংকার ক্রয়।

(৬)

২টি নতুন প্রতিটি কমপক্ষে ৮০,০০০ ডিডব্লিউটি সম্পন্ন (কয়লা পরিবহন উপযোগী) মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার ক্রয়।

(৭)

২টি নতুন প্রতিটি প্রায় ১৪০,০০০ সিবিএম ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন এলএনজি ক্যারিয়ার ক্রয়।

 

 

       টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বিএসসি সরকারের সাথে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। দারিদ্রতা দূরীকরণ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ‘বস্নু-ইকোনমি’র উপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো প্রয়োজন। সমুদ্রপথে পন্য ও বিশেষায়িত কার্গো পরিবহন ছাড়াও বিশেষভাবে দক্ষিন এশিয়া  ও দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায় টুরিজম এর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এতদ্ অঞ্চলে প্রমোদতরী পরিচালনা ও  সমুদ্র পথে পন্য পরিবহনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক অবস্থানে শীর্ষে পৌছাঁনো সম্ভব। পাশাপাশি সামুগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও যথাযথ পরিচালনার মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। 


Share with :
Facebook Facebook